চট্টগ্রাম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬:
চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ত ২ নম্বর গেট এলাকায় নেচে-গেয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেড় বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাত হোসেন নামের ওই যুবককে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে শাহাদাতকে ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে বেঁধে ১৫ থেকে ২০ জন মিলে মারধর করে। ঘটনার সময় কেউ গান গাইছিল, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছিল। মারধরের একপর্যায়ে তিনি মারা যান। পরে তাঁর মরদেহ অটোরিকশায় করে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নালার পাশে ফেলে রাখা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট পাঁচলাইশের প্রবর্তক মোড় এলাকা থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও ছবি দেখে নিহতের পরিবার তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
লাশ উদ্ধারের প্রায় এক মাস পর, ২১ সেপ্টেম্বর একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ গান গাইতে গাইতে বাঁধা অবস্থায় থাকা এক যুবককে মারধর করছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক এস এম সফিউল আজম মুন্সী জানান, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ছিনতাইয়ের সন্দেহে শাহাদাতকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় এক কিশোরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আরও দুজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না পাওয়ায় এখনো আসামি করা যায়নি।
নিহত শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরে একটি ফলের দোকানে কাজ করতেন।
নিহতের বাবা মো. হারুন বলেন, “আমার ছেলে দিনমজুর ছিল। যারা তাকে পিটিয়ে মেরেছে, তাদের বিচার চাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের শনাক্ত করা গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।