বাঙালি সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ। পঁচিশে বৈশাখ কেবল একটি তারিখ নয়, বরং বাঙালির মনন ও সংস্কৃতির এক পরম লগ্ন।

১৮৬১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে যে আলোর জন্ম হয়েছিল, তা আজও আমাদের অন্ধকার পথযাত্রায় ধ্রুবতারার মতো দীপ্যমান।

রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন বিশ্বমানবতার পাঠ । তাঁর ভাবনায় জাতীয়তাবাদ কখনও সংকীর্ণ ছিল না; বরং তিনি বিশ্বাস করতেন মহামানবের মিলনতীর্থে । আজকের এই অস্থির সময়ে, যখন চারদিকে অসহিষ্ণুতা আর বৈষম্যের আস্ফালন, তখন রবীন্দ্র-দর্শন আমাদের জন্য পরম আশ্রয়। শান্তি, সম্প্রীতি ও একাত্মতার যে বার্তা তিনি বিশ্বভারতী বা তাঁর লেখনীর মাধ্যমে প্রচার করেছেন, তা বর্তমান পৃথিবীতে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে ।

বাঙালির জীবনের প্রতিটি প্রান্তে রবীন্দ্রনাথের পদচারণা। সুখে-দুঃখে, প্রেম-বিরহে কিংবা উৎসবে-সংগ্রামে—রবীন্দ্রসংগীত বা কবিতা আমাদের নিত্যসঙ্গী । ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির জন্য তাঁর নোবেল প্রাপ্তি কেবল বাংলা সাহিত্যের স্বীকৃতি ছিল না, তা ছিল প্রাচ্যের জীবনবোধের এক বৈশ্বিক জয়গান ।
রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের মূল উদ্দেশ্য কেবল গানে-নাচে বা উৎসবের আমেজে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া নয়; বরং তাঁর মানবিক মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল চিন্তাকে নিজের জীবনে ধারণ করা। তিনি চেয়েছিলেন একটি ভয়হীন ও মুক্তবুদ্ধির সমাজব্যবস্থা, যেখানে “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” ।
আজকের এই শুভ দিনে কবিগুরুর প্রতি ‘মানুষমক্কা’ এবং ‘টাইম বুলেটিন ২৪’-এর পক্ষ থেকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁর সৃষ্টি যেমন আমাদের পরিচয়কে ঋদ্ধ করেছে, তেমনি আগামীর সমৃদ্ধ ও মানবিক পৃথিবী গড়তে তাঁর পথনির্দেশ আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে।

শুভ রবীন্দ্রজয়ন্তী!
শুভেচ্ছান্তে—
মানুষমক্কা ও টাইম বুলেটিন ২৪ পরিবারের সকল সদস্য।