ওমর ফারুক
বাংলাদেশে গুরুবাদের চর্চাকারী ব্যক্তি, আশ্রম, মাজার ও দরগাহগুলো মব সহিংসতার শিকার হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এর পিছনের অনেক কারনের মধ্যে অন্যতম তিনটি কারন হচ্ছে
এক)
পীর ফকির ওলি আউলিয়াদের মাধ্যমে প্রকৃত মোহাম্মাদী ইসলাম এখনও জীবিত আছে। কারবালায় দৃশ্যত পরাজিত ইসলাম ওলি আউলিয়াগন ধারন করে চলেছেন। পক্ষান্তরে কারবালায় দৃশ্যত বিজয়ী ইসলাম বিশ্বব্যাপী ব্যাপৃত হয়েছে মোহাম্মাদ বিরোধী দর্শনকে বগলে করে নিয়েই। ফলে ইসলামকে পণ্য বানিয়ে আজ সর্বশ্রেষ্ঠ দামে বেচাকেনা করা হচ্ছে।

মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী
দুই)
গুরুবাদ শুধুমাত্র ভক্তিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে সাংগঠনিকরূপে না আসার কারনে গুরুবাদ বিরোধীরা একে যখন তখন হামলা করে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী সম্প্রতি নুরা পাগলা ও শামীম আল জাহাঙ্গীর হ্ত্যার ধরন তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। গুরুবাদ আঘাতপ্রাপ্ত হলে সব রাজনৈতিক দলই কমবেশি রাজনৈতিক ফায়দা লুটে থাকে। গুরুবাদের লোকেরা সংগঠিত থাকলে তাদের সংস্কৃতিকে তারা নিজেরা যেমন নির্বিঘ্নে লালন করতে পারবে, তেমনি রাষ্ট্রকেও নিরাপত্তা দানে সহায়তা ও চাপে রাখতে সক্ষম হবে।

তিন)
গুরুবাদের গুরুত্তের চেয়ে অধিকহারে বাজার সৃষ্টি করে গুরুবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। যেমন বাউল চর্চাকারীর চাইতে বাউল গানের শিল্পী অধিক বেড়েছে। বাউল ও বাউল গানের শিল্পী একই মানসিক হালে অবস্হান করেন না। কিন্ত সমাজে বাউল গানের শিল্পীই বাউল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একইভাবে সাধু সংঘের নাম করে করা হচ্ছে বিচিত্রা অনুষ্ঠান। সাধু সংঘে প্রকৃত সাধু থাকবেন, তাঁর সংঘ নিতে সাধনায় ব্রতী হতে ইচ্ছে পোষন করা লোকজন সে সংঘে যাবেন এবং সুর ও ভাবের রাজ্য অনুরণিত হবে উপস্হিতি। এই ভাবের দেশে বাউলের গানের কথা ফুলের মত ফুটতে থাকবে, সুবাস ছড়াতে থাকবে। বর্তমানে তা না হয়ে রাজনীতির ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সাধু সংঘের নামে চলছে হৈহুল্লোর। সুতরাং প্রকৃত গুরুবাদী জনগোষ্ঠীকে তাদের দর্শনের প্রয়োগ ঘটানোর জন্য মানদণ্ড ও অবস্হান পরিস্কার করে সাধুবাদের রাজনীতির প্লাটফরম রচনা করতে হবে। এই রাজনীতির প্রত্যক্ষ অবস্হান নেয়া এখন প্রাসঙ্গিক, সময়োপযোগী। প্রয়োগহীন দর্শন সাধারনতই রুগ্ন, কখনও কখনও মৃত।

গুরুবাদের দর্শন প্রকৃষ্ট জীবন দর্শন (ঐক্য সম্মত)। এই দর্শনের সন্ধানপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবানদের এগিয়ে আসতে হবে, তবেই ব্যক্তি থেকে জাতি পর্যন্ত শান্তির সুবাতাস পেয়ে মুক্তির দেশে যাবার পথ পাবে।

এই বিশ্বাস এবং প্রত্যয় রেখে সবাইকে বাংলা নববর্ষে গুণিতান্ত্রিক শুভেচ্ছা
লেখক – কবি, সম্পাদক