শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ জেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে সুনামগঞ্জে, যেখানে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ৫ কৃষক মারা যান। নিহতরা হলেন আবুল কালাম (২৫), নাজমুল হোসেন (২৬), হাবিবুর রহমান (২৪), রহমত উল্লাহ (১৩) এবং লিটন মিয়া (৩৮)। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তারা খোলা মাঠে বজ্রপাতের শিকার হন।

রংপুরে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু এবং অন্তত ৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মিলন মিয়া (৩৫) ও তালেব উদ্দিন (৪৫) মারা যান।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুজন নিহত হন। রহমত আলী উজ্জল (৩০) ধানক্ষেতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে, মমতাজ আলী খান (৫৮) নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান।
নেত্রকোণায় হাওরে ঘাস কাটতে গিয়ে আলতু মিয়া (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। একইভাবে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৫৫) মারা যান।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাওর অঞ্চলে, যেখানে খোলা মাঠে কাজ করার সময় কৃষকেরা সরাসরি বজ্রপাতে আক্রান্ত হন।
সুনামগঞ্জ (৫ জন নিহত)
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন—
- আবুল কালাম (২৫) – তাহিরপুর
- নাজমুল হোসেন (২৬) – জামালগঞ্জ
- হাবিবুর রহমান (২৪) – ধর্মপাশা
- রহমত উল্লাহ (১৩) – ধর্মপাশা
- লিটন মিয়া (৩৮) – দিরাই
দুপুরে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই বা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। একজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
রংপুর (২ জন নিহত, ৯ জন আহত)
রংপুর এর মিঠাপুকুর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে অন্তত ১১ জন আহত হন, যাদের মধ্যে শিশু ছিল।
মৃতরা হলেন—
- মিলন মিয়া (৩৫), মৎস্যজীবী
- তালেব উদ্দিন (৪৫), কৃষক
তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ (২ জন নিহত)
ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজন মারা যান—
- রহমত আলী উজ্জল (৩০), মুদি দোকানি—ধানক্ষেতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত
- মমতাজ আলী খান (৫৮)—নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে নিহত
নেত্রকোণা (১ জন নিহত)
নেত্রকোণা এর আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে আলতু মিয়া (৬৫) বজ্রপাতে মারা যান।
হবিগঞ্জ (১ জন নিহত)
হবিগঞ্জ এর নবীগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ (১ জন নিহত)
কিশোরগঞ্জ জেলাতেও পৃথক ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক বিশ্লেষণ
এই ঘটনাগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—
- অধিকাংশই খোলা মাঠ, হাওর বা জলাশয়ের কাছে ঘটেছে
- কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন
- হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় আশ্রয় না পাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে
বাংলাদেশে বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের সময় মাঠে কাজ করা মানুষের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, যা প্রতি বছরই প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।