বাংলাদেশে বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে এক অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। একদিকে মরণব্যাধি জলাতঙ্কের (Rabies) টিকার তীব্র সংকট, অন্যদিকে হামের (Measles) মতো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির মজুত নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ যেখানে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর হার শতভাগ, অথচ সরকারি হাসপাতালগুলোতে মিলছে না এই জরুরি প্রতিষেধক।
জলাতঙ্ক টিকার সংকট: ভুক্তভোগীদের হাহাকার
মুন্সীগঞ্জ শহরের শ্রমজীবী রুবি আক্তারের অভিজ্ঞতা দেশের বর্তমান চিত্রকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। তার দশ বছরের ছেলেকে কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে সরকারিভাবে কোনো টিকা সরবরাহ নেই।
- আর্থিক চাপ: সরকারি হাসপাতালে টিকা না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে ৯০০ টাকায় টিকা কিনতে হচ্ছে।
- দুর্দশা: দৈনিক ৩০০ টাকা আয়ের মানুষের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
- অনিশ্চয়তা: প্রথম ডোজ কিনলেও পরবর্তী ডোজগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ রয়েছে
টিকাদান কর্মসূচির সামগ্রিক পরিস্থিতি

দেশে যখন হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, তখন টিকার মজুত নিয়ে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে:
- হামের টিকা: সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় থাকা হামের টিকা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
- মজুত নিয়ে অস্পষ্টতা: সরকারিভাবে পর্যাপ্ত টিকার দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে রোগীরা তার সুফল পাচ্ছেন না।
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান: বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জানালেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ: জলাতঙ্কের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর টিকার প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। সরকারি সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইনে এই দীর্ঘসূত্রতা এবং মজুত নিয়ে লুকোচুরি সাধারণ মানুষের জীবনকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: তাফসীর বাবু, বিবিসি নিউজ বাংলা (২৫ এপ্রিল ২০২৬)