সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী
মানব জীবন স্বভাবতই ধর্ম-নির্ভর। সূফি দর্শনে ধর্ম হচ্ছে প্রচলিত জীবন ধারায় অবস্থান রত মানবের মন-মস্তিষ্কে আগত প্রতিদিনের ঘটনা প্রবাহ। যা অস্থায়ী সময় হিসাবে আবির্ভূত হয় আর অস্থায়ী সময় হচ্ছে ধর্মের ব্যাপ্তি কাল। কোরআনের ভাষায় এই ব্যাপ্তিকে বলা হচ্ছে “ইয়াওমুদ্দিন” বা দ্বীনের কাল (Duration of Dharma). ধর্মের এই কাল কোন রকম স্থায়ী হবার নয়। এটা পরিবর্তনশীল অনিত্য। এর উদয় আছে, আছে বিলয়। তাই প্রচলিত জীবন ধারায় নিমজ্জিত মানবের বস্তুবাদী ধর্ম অসার এবং অনাত্মা। মুক্তি পথের সন্ধানী হিসাবে এর উপর নির্ভর করা যায় না। একমাত্র গুরু ছাড়া। মুহাম্মাদ আলাইহে আসসালাতু আসসালাম ছাড়া বাকী সব কিছুই নফস বা ধর্ম।

আমাদের দেহ ও মনে যা কিছু রয়েছে ভক্ত-অভক্তি, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আশা-ভরসা, ভয়-কামনা, জ্বরা-ব্যাধি, জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, জ্বালা-যন্ত্রনা, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমস্ত অস্তিত্বেই বিরাজমান এই সবই নফস বা ধর্ম। নফসের এই বন্ধনই আমাদের জীবনের বন্দীদশা। মানব দেহে সপ্ত ইন্দ্রিয়ে অবিরাম ভাবে আগত ধর্ম বা বিষয়ের আঘাতগুলো দৃশ্য, শব্দ, স্পর্শ, স্বাদ, গন্ধ, বস্তুভাব ইত্যাদি রূপেভলোভ, হিংসা আর মোহ– এই তিন যোগ শক্তির দ্বারা এক ধরনের সংস্কারে পরিণত হয়। এই স্মৃতি বা সংস্কারগুলোর নামও নফস বা ধর্ম। বস্তুত: সকল রকম ধর্ম, সংস্কার ও নফসের বন্ধন মুক্তির জন্য প্রয়োজন এক মাত্র ইসলাম। ইসলাম ছাড়া মানব জীবনের মুক্তির অন্য কোন পথ নেই। ইসলামই মুক্তির এক মাত্র মুখ্যম বিধান। ইসলাম অর্থ ভক্তি বা সমর্পণ। মহাগুরু মাওলা মুহাম্মাদ আঃ ও তাঁর সন্তানের উপর সমর্পণের নাম ভক্তি বা ইসলাম। মহামানবের উপর ভক্তিহীন, সমর্পণহীন অবস্থায় ইসলাম হয় না। প্রকৃতপক্ষে প্রভুগুরুর উপর শর্তহীন সমর্পণের দ্বারা নিজেকে সংস্কার শূন্য করলে ধর্ম বা নফস মুক্ত হয়ে উঠে। ব্যক্তি জীবনের এই হাল বা অবস্থাটিই হচ্ছে সাফল্য অর্জন, মুক্তি লাভ।
তথ্যসুত্রঃ মাওলার অভিষেক ও মতভেদের কারণ