রাজনীতি মানুষের কল্যাণ, রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রূপ নেয় ব্যক্তিগত শত্রুতা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতিতে। এর ফলে সমাজে বিভাজন বাড়ে, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো স্থায়ী সমাধান দেয় না। একটি দল ক্ষমতায় গেলে আগের দলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ শুরু হলে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। একইভাবে বিরোধী দলও প্রতিশোধের রাজনীতি চালালে একটি চক্র তৈরি হয়, যেখানে রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য—জনকল্যাণ—পেছনে পড়ে যায়।

ওমর ফারুক
একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তখনই বাস্তব হতে পারে, যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠিত হবে। মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। আইনের শাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিহিংসার সুযোগ কমে আসে।
তরুণ প্রজন্ম এই পরিবর্তনের বড় শক্তি হতে পারে। তারা যদি বিভাজনের রাজনীতির বাইরে এসে নীতি, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক চিন্তাকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
যেকোন দর্শনের প্রয়োগ সমাজে ঘটাতে হলে প্রয়োজন হয় দর্শনভিত্তিক সাহিত্য ও রাজনীতির মেলবন্ধন এবং সমন্বিত শক্তি, যে শক্তি ও সামর্থ জনমানুষের মঙ্গলের জন্য নিবেদিত হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় ব্যক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে উঠে মানুষের জন্য দায়িত্ত্ব নিয়ে কাজ করার মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ত। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন ওঠে যে, এ রকম লোক প্রকৃত পক্ষে নেই। আমি এই কথার সাথে সর্বদাই দ্বিমত পোষন করি। মানবিক গুনাবলি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ত্ব আমাদের সমাজেই আছেন, যাদেরকে আমরা গ্রহন করি না। বরং তাদেরকে লাঞ্ছিত করি,তিরস্কার করি। অনেক গুণসম্পন্ন ব্যক্তি মূর্খ জনগোষ্ঠী দ্বারা হত্যাও হয়েছে।
সর্বোপরি, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি একটি জাতীয় মানসিক পরিবর্তনের বিষয়। এই পরিবর্তন ঘটলেই একটি সত্যিকারের নতুন বাংলাদেশ গড়ে ওঠার পথ উন্মুক্ত হবে।
ওমর ফারুক