গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধাপে ধাপে বড় কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট। ইতিমধ্যে গণমিছিল, সেমিনার ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শেষ করে তারা এখন বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত রাজধানীতে একটি বড় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। মূল লক্ষ্য—ক্ষমতাসীনদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো।

জোটের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান কর্মসূচিগুলো জনমত গঠন ও সংগঠন শক্তিশালী করার অংশ। মাঠের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখে পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তৃত, এমনকি কঠোর কর্মসূচিও নেওয়া হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে। সরকার দাবি না মানলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।
গত ৯ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে লিফলেট বিতরণ, বিক্ষোভ এবং ঢাকায় একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৬ এপ্রিল কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ২৫ এপ্রিল বিভাগীয় শহরে এবং ২ মে জেলা শহরে গণমিছিল রয়েছে। পাশাপাশি সেমিনার ও গণসংযোগ কার্যক্রম চলবে।
জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সূত্র জানায়, বর্তমানে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের কর্মসূচির প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেমিনারের বিষয়বস্তু ও অতিথি নির্বাচন নিয়েও কাজ চলছে। এসব কর্মসূচির পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রায় ৭০ শতাংশ পায়। তবে পরবর্তী শপথ ইস্যুতে মতভেদের কারণে এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলো সংসদের ভেতরে যেমন সক্রিয়, তেমনি মাঠেও কর্মসূচি বাড়িয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। জোটের নেতারা বলছেন, গণভোটের ফল অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় জনমনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করছে।
আগামী ২ মের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই জোটের বৈঠকে এসব কর্মসূচির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জোটভুক্ত একটি দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, সরকার শেষ পর্যন্ত দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে—এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।