
রিয়াজুল ইসলাম সবুজ
গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি সুস্থ ও সচল গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং সাংবাদিকদের নির্ভীক পথচলা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে সত্য প্রকাশ যেন এক ভয়াবহ ঝুঁকির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর যে কাপুরুষোচিত ও বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে, তা কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক কোনো আক্রমণ নয়; বরং এটি আমাদের তথ্যের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। যখন কোনো জনপদে সাংবাদিকের ওপর আঘাত আসে, তখন বুঝে নিতে হবে সেখানে অনিয়ম আর দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। সত্যকে আড়াল করতে এবং জনমনে ভীতি সঞ্চার করতেই দুর্বৃত্তরা কলম আর ক্যামেরাকে ভয় পায়। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হলো—কলম ভেঙে বা ক্যামেরা গুঁড়িয়ে দিয়ে কখনো সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি, আর ভবিষ্যতেও হবে না। উল্লাপাড়ার এই ন্যাক্কারজনক হামলা প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা আইনের তোয়াক্কা না করে কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আঘাত পুরো সমাজ ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে আজ হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাংবাদিকরা অনিরাপদ থাকা মানেই সাধারণ মানুষের অধিকারের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হওয়া। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমাদের দাবি সুষ্পষ্ট:
১. কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ছাড়াই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামাদির (ক্যামেরা ও অন্যান্য ডিভাইস) উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই বারবার এমন ঘটনার জন্ম দেয়। প্রশাসন যদি এই হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার শামিল হবে। আমরা আশা করি, অতি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে প্রশাসন সত্যের পক্ষে তাদের অবস্থান জানান দেবে। — আহত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামাদির দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই বারবার এমন ঘটনার জন্ম দেয়। প্রশাসন যদি এই হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করবে। আমরা আশা করি, অতি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে প্রশাসন সত্যের পক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থান জানান দেবে।
লেখক: কলামিস্ট, কবি ও সম্পাদক।