ওমর ফারুক (অধীন) রচিত ‘ শান্তি দর্শন ‘ গ্রন্থে “গুণিতন্ত্র” (Gunitantra) বিষয়টি একটি বিশেষ শাসন ও সমাজিক ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। লেখকের মতে, এটি প্রচলিত গণতন্ত্র বা রাজতন্ত্রের বিকল্প এক মানবিক ও নৈতিক আদর্শ।

নিম্নে এই গুণিতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য আলোচনা দেওয়া হলো
: ১. গুণিতন্ত্রের মূল ধারণা ‘শান্তি দর্শন’ অনুযায়ী, গুণিতন্ত্র হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তির গুণ বা যোগ্যতাকে প্রধান্য দেওয়া হয়। এখানে বংশমর্যাদা বা সংখ্যার আধিক্য নয়, বরং মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিই তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের মাপকাঠি।
২. গুণিতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি ও বৈশিষ্ট্য বইটিতে বর্ণিত গুণিতন্ত্রের মূল ভিত্তিগুলো হলো: যোগ্যতার মূল্যায়ন: সমাজে কেবল তারাই নেতৃত্বের আসনে বসবেন যাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলি, জ্ঞান এবং ন্যায়পরায়ণতা বিদ্যমান। গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ: প্রচলিত গণতন্ত্রে কেবল সংখ্যার জোরে (Votes) অযোগ্য ব্যক্তিও নেতা হতে পারেন। কিন্তু গুণিতন্ত্রে সংখ্যাধিক্যের চেয়ে গুণের আধিক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার ও সাম্য: এই ব্যবস্থায় প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করা হয় গুণের ভিত্তিতে, ফলে বৈষম্য কমে এবং প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ: গুণিতন্ত্রের সফল প্রয়োগের জন্য সমাজকে সুশিক্ষিত এবং নৈতিকভাবে উন্নত হওয়ার ওপর লেখক জোর দিয়েছেন।
৩. শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা ওমর ফারুক তার দর্শনে দাবি করেছেন যে, আধুনিক বিশ্বে প্রচলিত রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির সমাধান লুকিয়ে আছে গুণিতন্ত্রের মাঝে।
যখন মানুষ নিজের স্বার্থের চেয়ে মানবতাকে বড় করে দেখবে এবং গুণী মানুষের হাতে শাসনভার ন্যস্ত থাকবে, তখনই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি আসবে।
আপনি কি এই দর্শনের অন্য কোনো বিশেষ দিক বা ওমর ফারুক (অধীন)-এর অন্য কোনো বই সম্পর্কে জানতে আগ্রহী? রকমারি বা পিবিএস-এর মতো অনলাইন শপগুলোতে উনার শান্তি দর্শন বইটি পাওয়া যায়।
পাবেন র্যামন পাবলিশার ২৬ বাংলাবাজার, ঢাকা।
পিডিএফ পড়তে পারেন