সোমবার, বিকাল ৫:৪৪, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, বিকাল ৫:৪৪, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্মদর্শনে সিয়াম

ড. হাসান রাজা

‘নূর মুহাম্মদ’ দৃশ্যমান অদৃশ্যমান, আগত অনাগত সকল সৃষ্টির একমাত্র আদি শক্তি, স্রষ্টা। সকল সৃষ্টির মাঝে তিনি ই রূপে বিরাজিত। তাঁরই স্বরচিত মহানিয়ন্ত্রণমূলক চির পরিবর্তনশীল গতিতে সকল সৃষ্টির অনন্ত অসীম বিবর্তন, ছুটে চলা। তবে সকল সৃষ্টির মাঝে ই রূপে বিরাজিত থাকলেও একমাত্র মানুষের মাঝেই তিনি প্রকাশিত ও বিকশিত হতে চান। কারণ মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব (আশরাফুল মাখলুকাত)। মহান স্রষ্টা মানুষকে তাঁর নিজরূপে সৃষ্টি করেছেন (খালাকাল ইনসানা আলা সূরাতিহি)। আল কোরআনে ঘোষিত হয়েছে মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন (… ইন্নি জা’ইলুন ফিল আরদি খলিফা)।

তাই পৃথিবীর সকল ধর্মদর্শনে পাওয়া যায়, সকল জীবের মাঝে তিনি আত্মারূপে বিরাজিত থাকলেও একমাত্র মানুষের মাঝেই তিনি স্বরূপে প্রকাশ বিকাশের মাধ্যমে মানুষের দ্বারাই পূজ্য এবং মানুষের মাঝেই প্রকাশ্য ই রূপে বিরাজমান থাকেন।

মানুষ তার আদি অবস্থা থেকে কিভাবে সকল সৃষ্টিশীল জগত পরিভ্রমণ করে পুনরায় আপন অস্তিত্বের মাঝে নিহিত ইকে জাগিয়ে তুলবে তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সৃষ্টির বিকাশ বিজ্ঞান শিক্ষালাভের সর্বজনীন সাধন প্রক্রিয়াই হচ্ছে যুগে যুগে পৃথিবীতে আগত সকল নবী-রাসুল-মহাপুরুষের প্রচারিত ধর্মদর্শন, জীবনদর্শন।

এই জীবনদর্শন নবী রাসুলের পাশাপাশিই এখন পর্যন্ত তাঁদের স্থলাভিষিক্ত নায়েবে রাসুল, ওলী-আউলিয়া, সাধুপুরুষ, সুফি-দরবেশগণ প্রচার করে চলেছেন।

পৃথিবীর সর্বকালের সকল ধর্মদর্শনের মূল এবং মৌলিক বিষয় হচ্ছে ‘আত্মদর্শন’। এই আত্মদর্শনই সর্বজনীন আত্মমুক্তির সাধনা। এই আত্মমুক্তি তথা আত্মদর্শনের মূল বিষয় ‘নিজেকে জানা’। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন: ‘Know Thyself’, উপনিষদে বর্ণিত হয়েছে: ‘আত্মানং বিদ্ধি’, বাঙালির বিশ্বমানব মহামতি লালন শাহ বলেছেন: ‘আপনাকে আপনি চেনা সেই বড় উপাসনা’, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন: ‘আমি নিজের চেয়ে আপন যে জন, তারে খুঁজি আমি আপনায়’, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন: ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর’। এই প্রসঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: ‘যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে’।

এই নিজেকে চেনা বা জানার মধ্য দিয়েই আপন দেহ মাঝে নিহিত ইকে জাগিয়ে তুলে মানুষ সৃষ্টি জগতের সকল অজানা রহস্যের দ্বার উন্মোচন করে সৃষ্টি বন্ধনমুক্ত কালের রাজা হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থা মানব জীবনের সর্বোত্তম অবস্থা। তাই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত সকল ধর্মদর্শনের মৌলিক বিষয় ও সাধনা হচ্ছে ‘আত্মদর্শন’ তথা আত্মমুক্তির সাধনা।

এই আত্মমুক্তির সাধনা কোনো ক্ষণকালীন, বিচ্ছিন্ন বা নির্দিষ্ট সময়ের সাধনা নয়, নিরবচ্ছিন্ন জীবনব্যাপী সাধনা।


মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলো আবশ্যক।

Scroll to Top