বুধবার, দুপুর ১২:২৯, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, দুপুর ১২:২৯, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম খবর

মেয়াদোত্তীর্ণের ঝুঁকিতে ৩০ কোটি টাকার ওষুধ-ভ্যাকসিন, হাসপাতালে সংকটে রোগীরা,রোগীরা কিনছেন বাইরে থেকে

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/mqwwsk

দেশে যখন জলাতঙ্ক, সাপে কাটা ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন, তখন সরকারি গুদামে পড়ে থেকেই প্রায় ৩০ কোটি টাকার জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও ভ্যাকসিন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা, বিতরণ কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

রোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাদের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা শোয়াইব হাসান বিড়ালের আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন না পেয়ে বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য হন। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আরও অনেক রোগী।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) সূত্রে জানা গেছে, অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন, অ্যান্টি-ভেনম, কৃমিনাশক ওষুধ, র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক কিট, স্যালাইনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ গুদামে মজুত থাকলেও সেগুলোর যথাসময়ে বিতরণ হচ্ছে না। এর মধ্যে প্রায় ২৪–২৫ কোটি টাকার অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন রয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে পারে।

এছাড়া কিছু ওষুধ ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণও হয়ে গেছে, যেমন নরমাল স্যালাইনের একটি বড় অংশ। অন্যদিকে অ্যান্টি-ভেনম, ম্যালেরিয়া কিট ও বিভিন্ন ওষুধের মেয়াদ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ও অ্যান্টি-ভেনমের ঘাটতি থাকলেও পরে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার কারণে বর্তমান এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্রয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ—এই দ্বৈত ব্যবস্থার কারণে সমস্যা আরও বেড়েছে।

বর্তমানে সিএমএসডি কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দ্রুত এসব ওষুধ গ্রহণ ও বিতরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রোগীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন