
ডঃ সাইফুদ্দীন একরাম লেখকঃ গবেষক ও চিকিৎসক
দীর্ঘদিন ধরে হাঁটাকে কেবল ক্যালরি পোড়ানোর উপায় হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু সেই ধারণা এখন ভাঙতে শুরু করেছে। গবেষণা বলছে, আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট শক্তি ব্যবস্থার (constrained energy system) মাধ্যমে চলে; যার অর্থ হলো বেশি পরিশ্রম মানেই যে সবসময় বেশি ক্যালরি পুড়বে, তা নয়। তাই আসল প্রশ্নটি এখন “কত ক্যালরি খরচ হলো” থেকে সরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে – “শরীরের ভেতরে আসলে কি পরিবর্তন ঘটছে?”
এর উত্তর লুকিয়ে আছে হরমোনের মধ্যে।
সামান্য একটু হাঁটাও আমাদের পেশীকোষে ‘GLUT4 ট্রান্সপোর্টার’ সক্রিয় করে তোলে, যা ইনসুলিনের সাহায্য ছাড়াই রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। একই সময়ে, হাঁটা ‘AMPK’ নামক একটি প্রধান মেটাবলিক নিয়ন্ত্রককে উদ্দীপিত করে, যা চর্বি পোড়াতে এবং কোষের মেরামতে সাহায্য করে। এটি কেবল শারীরিক নড়াচড়া নয়; এটি আপনার মেটাবলিজমকে নতুন করে প্রোগ্রাম করার প্রক্রিয়া।

সঠিক সময় এর কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে দেয়। খাওয়ার ঠিক পরপরই অল্প সময় হাঁটলে তা রক্তে গ্লুকোজের আকস্মিক বৃদ্ধি রোধ করতে দীর্ঘক্ষণ পরের ব্যায়ামের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করে, কর্টিসল হরমোন কমায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ চর্বিকে (visceral fat) লক্ষ্য করে কাজ করে, যা মূলত হৃদরোগ ও মেটাবলিক ঝুঁকির প্রধান কারণ।
তাই হাঁটা কেবল ব্যায়াম নয়। এটি একটি সুনির্দিষ্ট হরমোনাল হস্তক্ষেপ (hormonal intervention), যা প্রতিটি পদক্ষেপে আপনার অজান্তেই শরীরের কাজ গুছিয়ে দেয়।
লেখকঃ গবেষক ও চিকিৎসক
#hormonehealth, #walking, #insulinresistance, #MetabolicHealth, #VisceralFatLoss