[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

হোম তথ্য ও প্রযুক্তি

এআইয়ের দাপটেও অটুট থাকবে যেসব মানবিক দক্ষতা

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/d3l7y6

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, বিশ্বজুড়ে প্রায় সব ধরনের কর্মক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। অফিসের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে তথ্য বিশ্লেষণ, কোড লেখা কিংবা কনটেন্ট তৈরির মতো কাজেও দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। ফলে একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে চাকরি হারানোর শঙ্কাও বাড়ছে অনেকের মধ্যে।

তবে প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতির মাঝেও কিছু দক্ষতা এখনো মানুষের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করছেন গবেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান গোহিউম্যানাইজের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নেতৃত্ব, আবেগ বোঝার ক্ষমতা, দল পরিচালনা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির মতো মানবিক দক্ষতাগুলো আগামী এক দশকেও সহজে এআইয়ের নিয়ন্ত্রণে যাবে না।

গবেষণায় উঠে এসেছে, আগামী ১০ বছরে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আওতায় চলে যেতে পারে। যদিও এআই ইতিমধ্যে অনেক জটিল কাজ করতে সক্ষম, তবু মানবিক উপলব্ধি, সহমর্মিতা, বিচারবোধ এবং সামাজিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো এখনো প্রযুক্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সবচেয়ে নিরাপদ দক্ষতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নেতৃত্ব। গবেষকদের মতে, একজন কার্যকর নেতা শুধু সিদ্ধান্তই নেন না, তিনি মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, আস্থা তৈরি করেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক দিকনির্দেশনা দেন। এই মানবিক গুণগুলো এখনো যন্ত্র পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারেনি। তাই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কিংবা জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের মতো পদগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমছে না।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সহযোগিতা ও দলগত কাজের দক্ষতা। বর্তমানে লাখ লাখ চাকরির বিজ্ঞাপনে দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। কারণ, সফল দলগত কাজ শুধু দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সহকর্মীদের মানসিক অবস্থা বোঝা, বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষমতা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে আলোচনার দক্ষতা বা নেগোশিয়েশন। গবেষকদের মতে, তথ্য বিশ্লেষণ বা প্রস্তুতির কাজে এআই সহায়তা করতে পারলেও সফল আলোচনার জন্য প্রয়োজন মানুষের আবেগ বুঝতে পারা, কণ্ঠের সুর ও শরীরী ভাষা বিশ্লেষণ করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা।

এ ছাড়া কোচিং ও মেন্টরিং, মানুষের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলা, পিপল ম্যানেজমেন্ট, আবেগসংক্রান্ত বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারপারসোনাল স্কিল এবং চেঞ্জ ম্যানেজমেন্টের মতো দক্ষতাগুলোকেও ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা এখনো প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। অথচ ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি মূল্য পাবে সেই মানুষগুলো, যারা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার পাশাপাশি মানবিক সম্পর্ক, নেতৃত্ব ও যোগাযোগের দক্ষতায় নিজেদের আলাদা করে তুলতে পারবেন।

এআই হয়তো অনেক কাজ সহজ করে দেবে, কিন্তু মানুষকে বোঝার ক্ষমতা এখনো মানুষের কাছেই সবচেয়ে শক্তিশালী।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন