সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি–এর বিশেষ সাইড ইভেন্ট ‘দ্য গ্যাভি লিপ ইন অ্যাকশন’-এ বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি।
অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, টিকাদান বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় মূলত তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তব্যে ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দেশে টিকাদানের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো কোনো শিশুকে টিকার আওতার বাইরে না রাখা। এ জন্য সরকার স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, কোল্ড-চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।”
সাইড ইভেন্টে উপস্থিত আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাংলাদেশের টিকাদান কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জনস্বাস্থ্য খাতে দেশের অগ্রগতিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে দুর্গম ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
অনুষ্ঠানে গ্যাভি–এর প্রতিনিধিরা বলেন, টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের স্বাস্থ্যখাতের সাফল্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।