বৃহস্পতিবার, ভোর ৫:৩০, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ভোর ৫:৩০, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম মতামত

ফাগুন রেজা হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর: আমাদের লড়াই চলবে

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/t7v0cu

কাকন রেজা

২১ মে। ২০১৯ থেকে ২০২৬। আজ ৮৪ মাস, বছরের হিসেবে ৭ বছর, ফাগুন চলে যাবার। বেঁচে আছি তো, ওকে ছাড়াই। যারা ভেবেছিলেন একঢিলে দুই শিকার। তারা ভুল ভেবেছিলেন। আছি তো প্রতিরোধে এবং প্রতিবাদেই। সবাই জানতো ফাগুন আমার সবচেয়ে দুর্বল জায়গা, ও চলে গেলে, আমারও প্রস্থান নিশ্চিত। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছের উপরে কিছু নেই। তিনি হয়তো চাননি আমার প্রস্থান। রয়ে গেছি। মানুষ নয়, পাথর এক।

কেন ফাগুন হত্যাকাণ্ড। ফাগুন গণমাধ্যম বেছে নিয়েছিল কাজের ক্ষেত্র হিসেবে। বংশ পরম্পরায়, জেনেটিকসের কারিশমায় ফাগুন গণমাধ্যমে এসেছিল। এবং এসেই বার্তা দিতে শুরু করেছিল, সে এসেছে। যারা বোঝার তারা ঠিকই বুঝে নিয়েছিল। বুঝেছিল, আধিপত্যবাদবিরোধী আরেকটা শক্তির উন্মেষ ঘটতে যাচ্ছে। পিতাকে থামানো যায়নি। মরহুম গিয়াস কামাল চৌধুরী বলেছিলেন সেসময়, ‘তুমি সরকারকে একটা বড় বিপদ থেকে উৎরে দিলে’। কিন্তু তখন বুঝিনি সে-বিপদ উৎরাতে গিয়ে নিজের ঘাড়ে বিপদ ঢেকে নিয়ে এসেছিলাম। তবে এটুকু বুঝেছিলাম, নিজেকে গোপন রাখতে হবে। রেখেছি।

বড় কথা বলিনি কখনো। কোনো হামবড়া দাবি নিয়ে আসিনি, সেই অসম্ভব কাজের বিনিময়ে। না-হলে আজকে হয়তো…। থাক, সেকথা না বলি, অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। শুধু বলি, চাইলে সবকিছুই সম্ভব হতো। ফাগুন রেজা, ইহসান ইবনে রেজা, ফাগুন হত্যার নেপথ্যের কারণ আক্কেলমান্দদের এটুকু থেকে আন্দাজ করে নেয়া খুব কষ্টসাধ্য কিছু নয়।

সবাই বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোঁঝা পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। যারা বলেন, তারা কিন্তু অনুভব করেন না, যতক্ষণ না তাদের কাঁধে সেই বোঁঝা ওঠে। ফাগুন গুম এবং পরে খুন হবার পর, অনেক তরফ থেকেই বলা হয়েছিল, যে খুনিদের চিহ্নিত করা গেছে, তাদের নিকেশ করে দেয়ার। সারাজীবন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে লড়েছি। শুধুমাত্র প্রতিশোধ আকাঙ্ক্ষায় সে জায়গা থেকে সরে আসিনি। পিতার মন চেয়েছে সন্তানের খুনিদের নিকেশ করতে। কিন্তু সেই মনই আবার আদর্শের ছবক দিয়েছে। যে ছবকে থেমে গেছি, মাটির দিকে চোখ রেখেছি, যাতে ক্রোধ প্রশমন হয়। জানি, বিচার বহির্ভূত হত্যা মানে, বিচারকে মাঝপথে থামিয়ে দেয়া। ফাগুন হত্যার কিলার গ্রুপ চিহ্নিত হয়েছে কিন্তু কেন এই হত্যা সেই রহস্য উদঘাটিত হয়নি প্রশ্নটা সেখানেই। পিবিআই ফেইল করেছে। অথবা ফেইল করানো হয়েছে। সম্ভবত করানো হয়েছে। এখন রহস্য উদঘাটনের ভার সিআইডি’র উপর। আশঙ্কা থাকে এখানেও ব্যর্থ হবার।

কারণ, ফ্যাসিজমের শেকড় এখনো উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। ঘাটে-ঘাটে রয়ে গেছে তারা। তারা সর্বশক্তিতে চেষ্টা করবে, যেমন করছে সাগর-রুনির বেলায়। করছে অন্যান্য ক্ষেত্রে। এসময়ে দেখা গেছে প্রমাণিত ঘাতকদেরও প্রমোশন পেতে। সুতরাং ন্যায়বিচারের আশা নিরাশায় পরিণত হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। কিন্তু ওই যে, আমরা লড়াই করছি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা বলেছি, বলছি, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা মব-জাস্টিস, দুটোই হাফডান চেষ্টা। এই চেষ্টায় অনেকসময়ই উদ্দেশ্য-বিধেয় থাকে। এই চেষ্টা উল্টো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। এমনকি আমরা চাই, আদালতেও যেন বিচারিক হত্যাকান্ডের ঘটনা না ঘটে। যে অভিযোগ রয়েছে আদালতের দিকে। আমরা চাই আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেলেই ফাগুন রেজা, সাগর-রুনিসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্ভব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেলেই ভবিষ্যতের ফাগুনেরা নিরাপদ থাকবে। সেই ন্যায়বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। খোদা আমাদের সহায় হউন।

লেখক – কবি, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন