বুধবার, সকাল ১১:৩১, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, সকাল ১১:৩১, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম মতামত

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: যোগ্য নেতৃত্বই পারে বদলে দিতে গ্রামবাংলার ভবিষ্যৎ

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/y9em3n

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হলো ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যিনি থাকেন, অর্থাৎ চেয়ারম্যান—তার সততা, যোগ্যতা ও দায়িত্ববোধের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে একটি ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচন তাই শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়; এটি গ্রামবাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই নির্বাচনে আবেগ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা সাময়িক প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণকে বিবেক ও সচেতনতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বর্তমান বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা এমন একজন চেয়ারম্যান, যিনি হবেন সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক এবং উন্নয়নমুখী। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে জনগণ এখন এমন নেতৃত্ব চায়, যারা ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে।

একজন আদর্শ চেয়ারম্যানের মধ্যে কিছু মৌলিক গুণাবলি থাকা জরুরি। তিনি হবেন শিক্ষিত, ভদ্র, দায়িত্বশীল এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক। মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে যুবসমাজের কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা, কৃষকের উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো বিষয়েও তাকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একজন চেয়ারম্যানকে দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতিনিধি হতে হবে। নির্বাচনের পরে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা অবহেলার শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব।

অন্যদিকে ভোটারদের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গণতন্ত্রে সচেতন ভোটই পারে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত একটি ইউনিয়নকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দিতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, সততা ও জনসেবামূলক কাজ মূল্যায়ন করা জরুরি।

টাকা, প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়—যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। কারণ ভোট শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়; এটি সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি নাগরিকের দায়িত্বও বটে।

গ্রামবাংলার উন্নয়ন, সুশাসন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় নেতৃত্বে সৎ ও দক্ষ মানুষের বিকল্প নেই। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণ যেন সচেতন, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করে—সেটিই সময়ের দাবি।

সঠিক নেতৃত্বই পারে বদলে দিতে একটি ইউনিয়নের ভাগ্য, আর সচেতন ভোটার পারে গড়ে তুলতে একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন