
সিলেট, প্রতিনিধি: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আগামী ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) মামলার রায় ঘোষণা করবেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ আদালতে তাদের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি জানান, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১৪ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে ২০২৫ সালের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের একাধিক অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় রাষ্ট্রপক্ষ ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ আদালতের সামনে তুলে ধরেছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে তাঁর স্বামীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে গেলেও পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযানে তিন দিনের মধ্যে নাম উল্লেখিত ছয়জন এবং সন্দেহভাজন আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের মিল পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার আসামিরা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক), অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।