বুধবার, দুপুর ১২:২৫, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, দুপুর ১২:২৫, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম খবর

রাতের গভীরে ‘অচেতন’ যাত্রা: সোমনামবুলিজমের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞান

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/mghotv

ঢাকা | নিজস্ব প্রতিবেদক
মাঝরাত। সবাই যখন গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন হঠাৎ কেউ একজন বিছানা ছেড়ে উঠে ধীরপায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন। চোখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা চাহনি, কিন্তু তিনি আসলে জেগে নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সোমনামবুলিজম (Somnambulism) বা স্লিপওয়াকিং। সাম্প্রতিক গবেষণায় এই রহস্যময় আচরণের পেছনে থাকা নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য উঠে আসছে।

মস্তিষ্কের এক বিচিত্র লড়াই

চিকিৎসকরা বলছেন, সোমনামবুলিজম মূলত ঘুমের একটি আংশিক অবস্থা। নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ (যেমন: মোটর কর্টেক্স, যা নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে) জেগে উঠলেও সজাগ অবস্থার জন্য দায়ী ‘প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স’ ঘুমন্তই থেকে যায়। ফলে শরীর সচল থাকলেও সচেতন মন সক্রিয় হয় না।

যাঁরা ঝুঁকিতে বেশি

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়—প্রায় ১৮% শিশু জীবনের কোনো না কোনো সময় ঘুমের মধ্যে হাঁটে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি সাধারণত কমে আসে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ১.৫% থেকে ৪% মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন।

ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন:

  • বংশগতি: পরিবারের কারও এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
  • মানসিক চাপ ও ক্লান্তি: তীব্র দুশ্চিন্তা বা দীর্ঘদিনের ঘুমের অভাব এর প্রধান অনুঘটক।
  • গ্যাজেট ও রেডিয়েশন: ২০২৬ সালের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার ঘুমের গভীরতা কমিয়ে স্লিপওয়াকিংয়ের প্রবণতা বাড়াচ্ছে।

বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে কি?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকারক না হলেও, কখনো কখনো ব্যক্তি রান্না করা, গাড়ি চালানো বা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে পড়ার মতো জটিল কাজও করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের মধ্যে হাঁটা ব্যক্তিকে হঠাৎ জোরে ধাক্কা দিয়ে জাগানো ঠিক নয়, কারণ এতে তিনি আতঙ্কিত বা সহিংস হয়ে উঠতে পারেন। বরং তাকে আলতো করে আবার বিছানায় ফিরিয়ে আনা নিরাপদ।

প্রতিকারের পথ

বর্তমানে চিকিৎসকরা ওষুধের চেয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঘর থেকে ধারালো বস্তু সরানো এবং জানালা-দরজা ভালো করে আটকে রাখার পরামর্শ দেয় NHS। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস বা ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে চললে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন