কোরবানী করা মানব জীবনের চরম এবং পরম কর্তব্য। কোরবানী ব্যতীত মুক্তিলাভের দ্বিতীয় কোন বিকল্প নাই। সমগ্র আল কোরান কোরবানীর কথায় ভরপুর, যদিও সূরা হজ্বের নিম্নবর্ণিত বাক্য কয়টিকে কোরবানীর নির্দেশমূলক বাক্যরূপে চিহ্নিত করা হয়। ‘কোরবানী’ শব্দটি কোরানে নাই। কোরানের শব্দ হইল ‘জবেহ’। অর্থ উৎসর্গ করা, পবিত্র করা বা শুদ্ধিকরণ।
সপ্ত ইন্দ্রিয় দ্বার দিয়া যত সব মূর্তি মস্তিষ্কে প্রবেশ করে সেগুলিকে মোহ দ্বারা স্মৃতিফলকে বদ্ধ করিয়া রাখিলেই উহাকে বলে শিরিক। এই সব শিরিকের কারণেই মানুষ বারংবার জন্ম ও মৃত্যুর সঙ্গে শরিক হইয়া দুঃখসাগরে নিমজ্জিত হইয়া থাকে। এই মূর্তিগুলি বহির্জগত হইতে দৃশ্য মূর্তি, শব্দ মূর্তি, গন্ধ মূর্তি, অনুভূতি মূর্তি ইত্যাদিরূপে আসিয়া থাকে এবং ভিতর হইতে ভাব মূর্তিরূপে উদয় হইয়া মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে লাগিয়া থাকে। এগুলি হয় তাহার পুনর্জন্মের উপাদান। উপাদানশূন্য হইতে পারিলে তাহার জন্য জন্মান্তর নাই। জন্মই দুঃখ, হোক তাহা জাহান্নামে অথবা জান্নাতে। জান্নাতে দুঃখের পরিমাণ কম হইলেও আছে। সকল প্রকার দুঃখ হইতে তথা জন্মচক্র হইতে মুক্ত হইতে চাহিলে তাহাকে প্রকৃত মুসলমান অর্থাৎ সম্যক গুরুর নিকট আত্মসমর্পণকারী হইতে হইবে। সম্যক গুরুর নিকট পরিপূর্ণভাবে সমর্পণকারী ব্যক্তিই কেবল গুরুর নির্দেশ পালনের সাহায্যে অনন্ত জন্মচক্রের দুঃখ হইতে মুক্ত হইয়া লা-মোকামে তথা মোকামে মাহমুদায় উন্নিত হইতে পারে।
যদিও কোরানের সকল কথাই কোরবানীকে কেন্দ্র করিয়া উল্লেখিত আছে তথাপি উদ্ধৃতি হিসাবে আমরা সূরা হজ্বের এই বাক্য কয়টির মধ্যে কোরবানীর কথা তুলিয়া ধরিলাম। এইটুকু ভাল করিয়া বুঝিয়া লইতে পারিলে কোরবানীর ব্যাপকতা উপলব্ধি করা সম্ভব হইবে।
সদর উদ্দিন আহ্মদ চিশ্তী