সোমবার, সন্ধ্যা ৬:২৪, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, সন্ধ্যা ৬:২৪, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকের আমরণ অনশন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে অনশন শুরু করেছেন এক শিক্ষক। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন, যিনি মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, শিক্ষকদের দেওয়া পাঁচ কার্যদিবসের আলটিমেটাম রোববার শেষ হওয়ার পরই তিনি এই কর্মসূচিতে যান। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা থাকায় শিক্ষকসমাজের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত দুই বছর ধরে কোনো শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, যদিও অনেকেই নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনের পরও অপেক্ষায় আছেন।

অনশনরত শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, বহু শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও অন্তত ১৭ জন শিক্ষক সেখানে অবস্থান করেন।

এদিকে অনশনের খবর পেয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। তবে রাত পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি এবং অনশন অব্যাহত থাকে।

এর আগে রোববার দুপুরে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকেরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ক্লাস বর্জন ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দেওয়ার মতো কর্মসূচির প্রস্তাব ওঠে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন আলোচনার পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাচ্ছেন। সোমবার আবার বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক। তাঁদের অনেকেই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পরও পদোন্নতি পাননি।

উপাচার্য পূর্বে জানিয়েছিলেন, পদোন্নতির বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তি রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান। নীতিমালা কার্যকর হলে যোগ্য শিক্ষকরা পদোন্নতি পাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, বিলম্ব আর গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে পারেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলো আবশ্যক।

Scroll to Top