হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে, যা চীনের তাইওয়ান কৌশলকে ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে। ইরান সরাসরি পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধ ঘোষণা না করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি তৈরি করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো পথটিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলাফল—বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ।

এই অভিজ্ঞতা বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাইওয়ানকে চাপে ফেলতে চীনকে সরাসরি সামরিক আক্রমণে যেতে নাও হতে পারে; বরং অনিশ্চয়তা তৈরি করেই তারা একই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। সমুদ্রপথে ঝুঁকি তৈরি হলে বেসরকারি খাত নিজেই পিছু হটে যায়—যেমনটি হরমুজে দেখা যাচ্ছে।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে এতদিন মূল প্রশ্ন ছিল, চীন সামরিকভাবে আক্রমণ করতে পারবে কি না। কিন্তু এখন সেই প্রশ্ন বদলাচ্ছে। হয়তো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ছাড়াই অর্থনৈতিকভাবে তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন করার পথ খুঁজছে বেইজিং। উদাহরণস্বরূপ, তারা যদি তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, কিছু এলাকা বিপজ্জনক ঘোষণা করে এবং সীমিত হামলা চালায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিজেই থমকে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিমা খাত বড় ভূমিকা রাখে। বড় শক্তিগুলোর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হলে জাহাজ বিমা পায় না। ফলে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়, যদিও আনুষ্ঠানিক অবরোধ ঘোষণার প্রয়োজন পড়ে না।
তাইওয়ানের গুরুত্ব এখানে অত্যন্ত বেশি। বিশ্বে উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের বড় অংশ সেখানেই উৎপাদিত হয়। এই সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বৈশ্বিক শিল্প, প্রযুক্তি এবং আর্থিক খাত একসঙ্গে বিপর্যস্ত হবে। তেলের মতো চিপস মজুত করে রাখা যায় না, কারণ প্রযুক্তি দ্রুত বদলায়।
অন্যদিকে চীন দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে—খাদ্য, জ্বালানি ও কাঁচামালের বিশাল মজুত গড়ে তুলে। এই ‘কেল্লা অর্থনীতি’ তাদের দীর্ঘ সময় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
গণতান্ত্রিক দেশগুলো এখনো সমন্বিতভাবে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে পারেনি। ফলে ভবিষ্যতে তাইওয়ান ঘিরে কোনো সংকট দেখা দিলে তা মুহূর্তেই বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থির করে দিতে পারে।
এই বাস্তবতায় শুধু প্রতিপক্ষকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। বরং জরুরি চিপ, যন্ত্রপাতি ও সরবরাহব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তোলা এবং মিত্রদের মধ্যে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।
টাইম সাময়িকী থেকে নেওয়া