বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়ের বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং একটি নির্মম গণহত্যা, যার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান চূড়ান্ত রূপ পায়।

মঙ্গলবার (৫ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ‘৫ মে শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি দাবি করেন, হেফাজতে ইসলাম ছিল আলেম-ওলামাদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যারা ১৩ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার তা কঠোরভাবে দমন করে।
এহসান মাহবুব জোবায়ের আরও অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশে একাধিক বড় ধরনের গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১২ সালে আল্লামা সাঈদী-এর রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং এ অর্জনের কৃতিত্ব সাধারণ জনগণের। কোনো ব্যক্তি এককভাবে এর দাবিদার হতে পারে না।
তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি জানান, শহীদদের সম্মান জানাতে তাদের দল একটি সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ জাবেদ ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে।
ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
সভায় বক্তারা শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুশীল ফোরামের সভাপতি মো. জাহিদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. আল হাসান মোবারক, মো. ফজলুল করিম এবং এস এম শহিদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতারা।