
ঢাকা, ১৩ মে ২০২৬: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (নির্বাচন কমিশন)। দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর এখন আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় একাধিক সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার বিদ্যমান শর্তটি বাদ দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে, যার লক্ষ্য মূলত প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
নীতিগত পরিবর্তনের পটভূমিতে ইতোমধ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন সম্পূর্ণভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার কাঠামোর দিকে যাচ্ছে।
ইসির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, ভোটার সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার শর্ত তুলে দিলে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে অনেক অপ্রাসঙ্গিক বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নয় এমন প্রার্থী, যাদের অনেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে চিহ্নিত, অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামানত বাড়ানোকে একটি সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রক উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে কমিশনের ভেতরে এ নিয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। একটি অংশ মনে করছে, অতিরিক্ত হারে জামানত বৃদ্ধি করলে সাধারণ ও স্বল্প আয়ের প্রার্থীদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তাই জামানতের হার এমনভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে যাতে এটি নিয়ন্ত্রণমূলক হলেও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ব্যাহত না করে।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা, পৌরসভায় মেয়র পদে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান বাতিলের মতো আরও কিছু প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
কমিশনের আইন ও বিধি সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির প্রধান আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, বর্তমান বৈঠকে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সুপারিশ কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে।
Get smarter responses, upload files and images, and more.
Log in
Sign up for free