
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে। রাজ্যপাল আর.এন. রবির সিদ্ধান্তে রাজ্যের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্বও শেষ হলো। ২০১১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন মেয়াদে রাজ্য পরিচালনা করেন তিনি।
গত ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছে যায়। তবে সরকার পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগপত্র জমা দিতে অনীহা দেখান বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল বিধানসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এখন নতুন সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্য পুলিশের তথ্যমতে, সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০০টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণের পর ফল প্রকাশের রাত থেকেই তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর এবং পাল্টাপাল্টি সহিংসতা শুরু হয়। উভয় দলই একে অপরকে দায়ী করছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায়। বিজেপির দাবি, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, সহিংসতার পেছনে বিজেপি-সমর্থিত সন্ত্রাসীরাই দায়ী।
রাজনৈতিক পালাবদলের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে অস্থির পরিস্থিতির মুখোমুখি।