
ছবি সংগ্রহ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬
বিতর্কিত নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি এখন উত্তাল। দিল্লি থেকে শুরু করে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। একাধিক বড় শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় চরম অস্বস্তি ও ব্যাকফুটে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানী দিল্লি ছাড়াও বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পাটনা, সুরাট এবং লখনউসহ দেশটির একাধিক বড় শহরের রাজপথে নেমে আসেন ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী ও বিরোধীরা। রাজপথে আন্দোলন জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। নিট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী নেতারা। শীর্ষ নেতাদের আটকের ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং আন্দোলন সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সতর্কতা হিসেবে প্রায় ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ ও গুজরাটের সুরাটেও বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতে দেখা গেছে বিজেপি ও কংগ্রেস সমর্থকদের মুখোমুখি অবস্থান। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাইয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবন অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ তা আটকে দেয়। পরবর্তী সময়ে অজয় রাইসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। পাল্টা মিছিলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী রাজনীতির অভিযোগ তোলেন।
রাজনৈতিক এই উত্তাপের মধ্যেই বিষয়টি গড়িয়েছে আদালতেও। গত ২০ জুলাইয়ের প্রতিবাদে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দায়ের করা তিনটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ পাঠিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ঘটনার দিনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশি বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং ও যাবতীয় ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক মন্তব্য করেন, জমায়েত বেআইনি হলেও বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে আইনি নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর।
(সূত্র: ফার্স্টপোস্ট)