
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঘরের ভেতর থেকে হুছনেআরা খাতুন (৩৬) [নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ। নিহত হুছনেআরা ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর এলাকার মৃত আবু তালেব খানের মেয়ে। পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোর ০৫.০০টা থেকে সন্ধ্যা ০৬.০০টার মধ্যে যেকোনো সময় দুর্বৃত্তরা তার ঘরে ঢুকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো: হযরত আলী (২৪) বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে নিহতের ‘কথিত স্বামী’ ও প্রেমিক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মোস্তাক (৫৫) (মোস্তাক ডাক্তার)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জানা যায়, অভিযুক্ত মোস্তাক ওই নারীর আয়ে চলত এবং ধার নেওয়া প্রায় ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোস্তাক ডাক্তারকে আটক করেছে। এর আগে, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) একই যৌনপল্লীতে সোনিয়া আক্তার নামে আরেক যৌনকর্মী তার কথিত প্রেমিক জুয়েলের মারধরে গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জুয়েলকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, “দুটি ঘটনাই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রতিবেদন ও ছবি: ১০/সেপ্টেম্বর /২০২৬ নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী