শনিবার, রাত ১২:২৫, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, রাত ১২:২৫, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম মতামত

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/srhue6

খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট নিরসন, কৃষি উন্নয়ন এবং নদী পুনর্জীবনের লক্ষ্য নিয়ে পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প—পদ্মা ব্যারাজ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে।

২০২৬ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রকল্পটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সরকারি অর্থায়নেই এটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ করে তা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। সরকার জানিয়েছে, ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে।

প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেলে ধান, গম, সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মৃতপ্রায় ও শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়িয়ে সেগুলো পুনর্জীবিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকলে নৌপথে পরিবহন সহজ হবে, যা বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে।

সরকারের দাবি, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পই হবে না, বরং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

লেখক – রাজনীতিবিদ, গবেষক

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন