রবিবার, রাত ১:৩৩, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, রাত ১:৩৩, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম খবর

আবাদের খরচই উঠছে না, ধানের বাজারেও সিন্ডিকেটের দাপট

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/t1tq8n

রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, বড় কোম্পানির এজেন্টদের সিন্ডিকেটের কারণে ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তুলতে আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজারদরে তা বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো। এতে বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কৃষক জয়নাল আবেদিন জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু উৎপাদিত ৭৩ মণ ধান বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে তিনি পাবেন মাত্র ৯১ হাজার টাকার কিছু বেশি। এতে তার প্রায় ১২ হাজার টাকা লোকসান হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, বড় বড় মোকামে কিছু কোম্পানির এজেন্টরা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম নির্ধারণ করছেন। হাটের দিন তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে দাম ঠিক করেন, ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

নওগাঁর কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট চাতাল ছিল, যারা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনত। এখন বাজারের বড় অংশ কয়েকটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় অধিকাংশ চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা কোম্পানির এজেন্টদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সার ও কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু ধানের বাজারদর কম থাকায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। অনেকের মতে, মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে ধান কিনে মজুত করছে এবং পরে বেশি দামে বিক্রি করবে।

সরকারি খাদ্যগুদামে ৩৬ টাকা কেজি বা ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে ধান কেনা শুরু হলেও সাধারণ কৃষক সেখানে ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণেই তারা সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তবে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের কাছ থেকেই সরাসরি ধান কেনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ আশা করছে, সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার হলে বাজারে ধানের দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন