বুধবার, রাত ১২:৩১, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, রাত ১২:৩১, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম আন্তর্জাতিক

ইরানে মার্কিন হামলা: যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা, কাতারে আলোচনার মাঝেই নতুন উত্তেজনা

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/5e4lm8

কাতারে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক আগে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হামলাটি ছিল আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। তবে ইরান একে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ও সমুদ্রে মাইন পেতে থাকা ইরানি নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও হামলার স্থান বা ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শহরটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। যদিও কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে, তবু সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষায়, যেকোনো উপায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আরেকটি যুদ্ধবিমানের দিকে গুলি ছুড়েছে। যদিও ঘটনাগুলোর সময় বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, এই হামলার ফলে যে পরিণতি তৈরি হবে, তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য আর মার্কিন ঘাঁটির জন্য নিরাপদ অঞ্চল থাকবে না।

তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে যায়নি দুই পক্ষ। তাঁর মতে, বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বন্ধ রাখা; ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টাপাল্টি হুমকি যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে তুলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন