
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশের (WHA) সাইডলাইনে বৈশ্বিক অসংক্রামক ব্যাধি ও ফ্যাটি লিভার নিয়ে আয়োজিত ‘টুগেদার ফর স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী সম্মেলনে তিনি এই কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। গলোবাল লিভার ইনস্টিটিউটসহ (GLI) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, কুয়েত, কাতার ও চীনের স্বাস্থ্য খাতের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
সম্মেলনের মূল প্যানেলে বক্তব্য প্রদানকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন যে বাংলাদেশ লিভার রোগ প্রতিরোধ এবং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে এর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে ফ্যাটি লিভার রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ, দেশব্যাপী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশের নতুন সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের মূল কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশেরও বেশি নাগরিকেরা নিজস্ব পকেট থেকে বহন করছেন। এই ব্যয়ভার অনেক পরিবারকে আর্থিকভাবে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। এই বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ক্রমান্বয়ে জনস্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বৃদ্ধি, সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ এবং একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য কাঠামোকে ডিজিটাল করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে।
একই সাথে প্রতিমন্ত্রী বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর সৃষ্ট মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ও ক্রমবর্ধমান নতুন রোগের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে রোগব্যাধির ধরন দ্রুত পাল্টাচ্ছে, যা বাংলাদেশের বিদ্যমান চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত ও তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়নের চাপের মুখে সম্পদের দক্ষ, স্বচ্ছ ও কৌশলগত ব্যবহারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ ও সাইলেন্ট কিলার ব্যাধি প্রতিরোধে উন্নত দেশ এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থাগুলোকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাড়াতে জোরালো তাগিদ দেন তিনি। সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লিভার রোগ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের এই দূরদর্শী সচেতনতা, সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও বাস্তবমুখী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।