শনিবার, রাত ২:০৭, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, রাত ২:০৭, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম জীবনযাপন

সমুদ্রের বর্তমান পরিস্থিতি: জলবায়ু সংকট ও বঙ্গোপসাগরের নতুন আশা

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/3xvwxv

ঢাকা, ২৩ মে ২০২৬:

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে আমাদের মহাসাগরগুলোর ওপর। বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে বঙ্গোপসাগরের রূপ ও প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একদিকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের গভীরে নতুন নতুন সামুদ্রিক প্রজাতির আবিষ্কার—সব মিলিয়ে সমুদ্র এখন পরিবেশ বিজ্ঞানীদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

১. আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাসাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং ভূ-উপগ্রহের উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার বিশ্ব গড়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এই শতকের শেষে (২১০০ সালের মধ্যে) উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১৭.৯৫ শতাংশ এলাকা সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষিকাজ ও সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

২. বঙ্গোপসাগরে নতুন প্রজাতির সন্ধান ও সামুদ্রিক জরিপএতসব নেতিবাচক খবরের মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের যৌথ পরিচালনায় পরিচালিত “ইএএফ-ননসেন্স জরিপ” (EAF-Nansen Survey)-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জলসীমায় ৬৫টি নতুন সামুদ্রিক প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫টি প্রজাতি সম্পূর্ণ পৃথিবীর জন্যই নতুন হতে পারে। সমুদ্রের ৭৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত চালানো এই ঐতিহাসিক গবেষণায় টুনা মাছের লার্ভাসহ বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে।

৩. রক্ষাকবচ হিসেবে ‘সুস্থ সাগর’ (Healthy Ocean) প্রকল্পসামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৫ বছর মেয়াদী ‘সুস্থ সাগর’ (Sustho Sagar) প্রকল্প। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (WCS) এবং ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ পরিচালনায় এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১২,৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল (Marine Protected Area) হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে অবৈধ ট্রলারের মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক মাছ শিকার বন্ধ করা যায়।

৪. প্লাস্টিক দূষণ ও উষ্ণতা বৃদ্ধির নতুন হুমকিগবেষকেরা সমুদ্রের গভীর থেকে পানির নমুনা পরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক (ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা) খুঁজে পেয়েছেন। এছাড়া সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগরে ক্ষতিকর জেলিফিশের প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা গভীর সমুদ্রে জেলেদের মাছ শিকারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিশেষজ্ঞের মতামত: পরিবেশবিদদের মতে, সমুদ্রের এই পরিবর্তন কেবল প্রকৃতির ক্ষতি করছে না, বরং তা সরাসরি উপকূলীয় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর আঘাত হানছে।

তাই বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে টেকসই সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন