
ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুয়া তথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভিডিও, অডিও ও ছবি নিয়ন্ত্রণে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে।
সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা হতে পারে। এর আওতায় ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে অভিযোগ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট অপসারণে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, গুজব ও মানহানিকর কনটেন্টের বিস্তার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত অডিও ও বিভ্রান্তিকর ছবি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব কার্যক্রম মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ বাতিল করে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সেটি আইন হিসেবে পাস হয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান আইনে অপতথ্য ছড়ানো বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির মতো কিছু কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট শাস্তির বিধান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীদের একটি অংশ আইন সংশোধনের উদ্যোগকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনলাইন অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলা জরুরি হলেও নতুন বিধানগুলো যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক সমালোচনা দমনের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর খসড়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকার বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহি বাড়ানো, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ এবং এআই-নির্ভর তথ্য বিকৃতি মোকাবিলার বিষয়গুলো নতুন আইনি পরিবর্তনের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।