শনিবার, রাত ১১:২৭, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার, রাত ১১:২৭, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম জাতীয়

ঢাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রশ্নের মুখে দুই সিটি করপোরেশন, মাঠে নেমে ব্যবস্থা নিলেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/0eblnt

ডেস্ক রিপোর্ট | টাইম বুলেটিন ২৪

পবিত্র ঈদুল আজহার পর রাজধানীতে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হলেও শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পশুবর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে বাস্তব চিত্রে বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ, পশুর উচ্ছিষ্টাংশ ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বাস্তবে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পশুর রক্ত, চামড়ার অংশ, খড়-ভুসি, ভুঁড়ির বর্জ্য ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম দাবি করেন, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে এবং বাকি চারটি ওয়ার্ডে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে পরদিন কয়েকটি ওয়ার্ডে এখনও পশুবর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৬৪১ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, দুই দিনে প্রায় ১৪ হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বর্জ্য ও ময়লা পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন ডিএনসিসির জোন-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ডিএসসিসির জোন-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রস্তুতি ও বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য ছিল। তারা প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় পশুবর্জ্য পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, ব্যাকটেরিয়া ও রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

তবে নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শুধু সিটি করপোরেশন নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতাও জরুরি। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া শতভাগ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন