
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার অবৈধভাবে অন্য উপজেলায় পাচার করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও বিসিআইসি সার ডিলার খন্দকার ফারুক হোসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগেও ২০২০ সালে একই অপরাধে তার বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডের রেকর্ড থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ইফফাত কিবরিয়া-আল-নাঈম নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে গোয়ালন্দ বাজারে যান। কাজ শেষে সন্ধ্যায় ফেরার পথে একটি সারবোঝাই নসিমন দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি নসিমনটির পিছু নিয়ে উপজেলার বাইরে যাওয়ার প্রাক্কালে সেটিকে থামান।
জিজ্ঞাসাবাদে চালক জানান, সারগুলো রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এগুলো ডিলার খন্দকার ফারুক হোসেনের মালিকানাধীন।
পরদিন বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত অভিযুক্ত খন্দকার ফারুক হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে তার ডিলারশিপ স্থায়ীভাবে বাতিল করার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
নিজের ভুল স্বীকার করে ডিলার খন্দকার ফারুক হোসেন জানান, গুদামে ইউরিয়া সার বেশি থাকায় তিনি তা অন্য উপজেলায় পাঠাচ্ছিলেন। অন্য উপজেলায় সার পাঠানো যে নিয়মবহির্ভূত, তা তার জানা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। অবৈধ পাচারের সময় হাতেনাতে ধরে ওই ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে। অন্য কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, “কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পাচার সহ্য করা হবে না। আইন অমান্য করায় তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একই ডিলার খন্দকার ফারুক হোসেনকে ৪০ বস্তা ইউরিয়া সার বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করার সময় আটক করা হয়েছিল। সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন ও ছবি:
১৯/আগস্ট /২০২৬
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী: