
ঢাকা, ১০ জুন: বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে আগামী শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাবেন দীনেশ ত্রিবেদী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু–এর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি অনুমোদন লাভ করেন। ঢাকায় এসে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে এ নিয়োগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
১৯৫০ সালের ৪ জুন নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী দীনেশ ত্রিবেদী গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও বেড়ে উঠেছেন কলকাতায়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অস্টিন থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ত্রিবেদী ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার তাকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয়। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলা ভাষায় দক্ষতা, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে গঙ্গা ও তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্য, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এসব বিষয়ে অগ্রগতি আনতে রাজনৈতিক যোগাযোগে দক্ষ একজন প্রতিনিধির প্রয়োজন ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নয়, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কেও নিহিত। সেই বিবেচনায় দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব পালন দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও জনসম্পৃক্ত যোগাযোগ আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।