টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের হাওরগুলোতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাকা ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা। শ্রমিক সংকট, বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় ধান কাটাই সম্ভব হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ভাণ্ডাবিল হাওরের কৃষক জানান, তার জমির অর্ধেক ধান কাটা গেলেও বাকিটা পানিতে ডুবে গেছে। কয়েকদিন পানিতে থাকলে তা পচে যাবে, ফলে উৎপাদন খরচও উঠবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কৃষক মতিন মিয়াও একই সংকটে পড়েছেন। ঋণ নিয়ে চাষ করা ধান পানির নিচে চলে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। অনেক কৃষকই বলছেন, শ্রমিকের অভাব ও বজ্রপাতের আতঙ্কে ধান কাটার কাজ থমকে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন ও সারিগোয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে এবং বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ধান কাটার অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য হলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করছেন কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা। তাদের মতে, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও তা যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না, ফলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোথাও কোথাও স্বেচ্ছাসেবী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত না করলে প্রতিবছরই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের।










