সমসুন নাহার
Youth Counselor & Social Welfare Organizer
ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং নারী-শিশু নির্যাতন আজ আমাদের সমাজের এক ভয়াবহ বাস্তবতা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও কোনো নারী বা শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, কিন্তু অসংখ্য ঘটনা পরিবার, সমাজ ও প্রভাবশালীদের চাপে নীরবে চাপা পড়ে যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— অনেক সময় অপরাধীর চেয়েও বড় ভূমিকা রাখে সেই মানুষগুলো, যারা সত্য জেনেও নীরব থাকে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন কিংবা সমাজের কিছু মানুষ “সম্মান রক্ষার” নামে অপরাধ আড়াল করতে সাহায্য করে। ফলে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
একজন নির্যাতনকারী হঠাৎ তৈরি হয় না। পরিবার থেকে ভুল শিক্ষা, নারীর প্রতি অসম্মান এবং বারবার অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তাকে ধীরে ধীরে ভয়ংকর করে তোলে।
আমরা প্রায়ই সমাজ পরিবর্তনের কথা বলি, অথচ সমাজ গড়ে ওঠে আমাদের দিয়েই। তাই সন্তানকে শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, তাকে মানবিক মূল্যবোধ ও নারীর প্রতি সম্মান শেখাতে হবে। তাকে বুঝতে শেখাতে হবে— অন্যকে অসম্মান করা কোনো শক্তি নয়, বরং তা মানবিকতার চরম অবক্ষয়।
একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও আইনকেও হতে হবে আরও কার্যকর ও কঠোর। নারী ও শিশু নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না। অপরাধীর পরিচয়, ক্ষমতা বা অর্থ যেন বিচারকে প্রভাবিত করতে না পারে। দৃষ্টান্তমূলক বিচারই অপরাধ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি মানবিক পরিবার, সচেতন সমাজ এবং নির্ভীক বিচারব্যবস্থা। কারণ যে সমাজে নারী ও শিশু নিরাপদ নয়, সেই সমাজ কখনো সভ্য হতে পারে না।
সব ধরনের অন্যায় প্রতিরোধে প্রধান ভূমিকা শুরু হোক পরিবার থেকেই— এটাই আমার প্রত্যাশা।