রবিবার, রাত ২:৩০, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রবিবার, রাত ২:৩০, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম মতামত

বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট: ন্যায়বিচার কি আজও সমান সবার জন্য?

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/h2hfo4

মোঃ শাহাদাৎ হোসেন শেখ

খুব জানতে ইচ্ছে করে, কৌশলির কৌশলে, সাংবিধানিক ধারার দূর্বলতা নাকি বিচার বিভাগীয় দূর্নীতির কারণে প্রদীপ,রসু খাঁ, ধর্ষক, মারার পর লাশ টুকরো কারি কোন এক যাদুকরীর কারসাজি বেড়িয়ে আসে?

আমাদের সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় এটা প্রতীয়মান হয় যে, সবকিছু ঠিক থাকলে এ ধরণের মামলায় আসামির রায় কার্যকর করা জরুরি আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য। কিন্তু হয় না।হয় কোথায়, রহিমা তার ছেলে কে দিয়ে ক্লাস নিয়েছিল। সুতরাং রহিমা বরখাস্ত।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সংবিধান নাগরিককে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সমঅধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কিছু অপরাধমূলক মামলা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, বিতর্কিত জামিন এবং বিচার নিয়ে জনমনে জন্ম নেওয়া প্রশ্ন সমাজে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটি প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—“ন্যায়বিচার কি সত্যিই নিশ্চিত হচ্ছে?”

ধর্ষণ, হত্যা, লাশ গুম কিংবা নৃশংস অপরাধের মতো ঘটনায় যখন সাধারণ মানুষ দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের প্রত্যাশা করে, তখন অনেক ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা, আইনি কৌশল, আপিল কিংবা দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাঙ্ক্ষিত রায় কার্যকর হতে বিলম্ব হয়। এতে জনমনে হতাশা তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। মানুষ মনে করে, অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু যখন বিচার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কিংবা কোনো মামলার রায় সাধারণ মানুষের কাছে অস্পষ্ট বা বিতর্কিত মনে হয়, তখন পুরো বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অতীতে দেশের একজন প্রধান বিচারপতির মুখ থেকেও বিচার বিভাগের ভেতরে দুর্নীতির ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এসেছে, যা জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা—সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ, আপিল বিভাগ এবং অধস্তন আদালত—দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সাধারণ মানুষ এখনও শেষ আশ্রয় হিসেবে আদালতের দিকেই তাকিয়ে থাকে। কিন্তু যদি মানুষ ধীরে ধীরে বিশ্বাস হারাতে শুরু করে, তবে তা রাষ্ট্র এবং সমাজ—উভয়ের জন্যই অশনিসংকেত।

বিচারপ্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা খুবই সাধারণ। তারা চায়, অপরাধ অনুসারে নিরপেক্ষ বিচার হোক; রাজনৈতিক, আর্থিক কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব যেন আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে। একইসঙ্গে অবৈধ জামিন, অনিরপেক্ষ রায় কিংবা অর্থের বিনিময়ে আইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যেমন—বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, আদালতের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। একইসঙ্গে আইনজীবী, তদন্ত সংস্থা এবং বিচার বিভাগের প্রত্যেক স্তরে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী করা দরকার।

ন্যায়বিচার শুধু আদালতের রায় নয়; এটি জনগণের বিশ্বাসের বিষয়ও। সেই বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে হলে বিচারব্যবস্থাকে হতে হবে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সংবেদনশীল। কারণ বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তিই।

সহকারী অধ্যাপক রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজ,বগুড়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন