
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত নারুয়া-গোয়ালদহ সেতুর নির্মাণ প্রক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন গতি। নকশা চূড়ান্তকরণ ও আনুষঙ্গিক কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চায়নিজ কনসালটেন্স টিমের প্রকৌশলীগণ। প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক নথি (At a Glance) থেকে জানা যায়, সেতুটি ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (২য় পর্যায়)’ [Feasibility Study for Important Bridges Construction on Rural Roads Projects (2nd Phase)] শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নথিতে এর প্যাকেজ নম্বর FS/22/23/SS1/01 এবং রোড আইডি 382072011 উল্লেখ রয়েছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দির নারুয়া গ্রোথ সেন্টার (জিসি) থেকে ছাচিলাপুর জিসি গোয়ালদহ ঘাট সড়কের ৯০০ মিটার চেইনেজে গড়াই নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হবে। আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সেতুটির সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ৯৮০ মিটার। সেতুর ভূ-কারিগরি পরীক্ষার (Geotechnical Investigation) দায়িত্ব পালন করছে ঢাকার ফার্মগেট এলাকার ‘প্রো-সোয়েল ফাউন্ডেশন’। প্রকল্পটির আওতায় নদীতে ৬টি (৬০ মিটার গভীর) এবং স্থলে ৪টি (৫০ মিটার গভীর) সহ সর্বমোট ১০টি বোরিং সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে চায়নিজ কনসালটেন্স টিমের বিশেষজ্ঞরা জানান, নদীর গতিপথ, মাটির স্থায়িত্ব ও পারিপার্শ্বিক স্থানিক নকশা বিবেচনা করে দ্রুতই চূড়ান্ত ডিজাইন প্রস্তুত করা হবে। এর পরপরই এলজিইডি রাজবাড়ীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হবে। স্থান পরিদর্শনের সময় এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত হোসেন, চায়নিজ ডিজাইন কনসালটেন্ট প্রকৌশলী চ্যাং ও লাল কিং, রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী রেজওয়ান খান নাফিজ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদ আহমেদ আশিক, সহ-সভাপতি মোঃ আবু জাফর মিয়া এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ তুহিনুর রহমান তুহিনসহ এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন অর রশীদের বিশেষ রাজনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বর্তমান সরকার সেতুটি নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে রাজবাড়ীর সাথে আশেপাশের অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যা স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

প্রতিবেদন ও ছবি: ২০/আগস্ট /২০২৬ নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ী