
রফিক ইসলাম
শুরুটাই শেষের কুলতলায় আবিষ্কার,
তখনও তার লিঙ্গান্তর অজানা সারা গায়ে শোকের বসন্ত!
কান্ড, শাখা-প্রশাখায় আতরের ঘ্রান!
খোঁজ নিয়ে জানা গেল নাম-‘গার্ডেনিয়া
– জনক: আলেকজেন্ডার গার্ডেন
ডাকনাম: গন্ধরাজ!
অথচ অনেক খুঁজেও জীবিত মালিকে খুঁজে পাওয়া গেল না কোথাও।
চারিদিকে শুনশান নীরবতা,
ভিতরে কোরআন পড়ার শব্দ একটু পরেই মাইকে আজানের সুর – “আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম”
রাতের অন্ধকার বিলীন হবার আগেই স্পষ্ট হয় কাকসকলের কোলাহল।
তীব্র শীতে নিঃসঙ্গ জায়নামাজ বুকে জড়ায় পরিচিত শাল।
মাঝখানে কেটে গেছে বহু দিন চৈত্রের খরা,
বৈশাখের ঝড়
গন্ধরাজ আজ সবুজের বানে যৌবনা মরা নাকের কোটরে গুঁজে দেয়া তুলোর মত শুভ্র তার পাপড়ি
আষাঢ়ের মেঘ-বর্ষায় ধুয়ে যাওয়া ধূলি
পত্র-পল্লবের সিঁড়ি মাড়িয়ে পলি হয়ে জমা হয়েছে তার প্রতিটি বৃন্তে
কোলজুড়ে সন্নিবেশিত হয়েছে শত কলি কিন্তু গন্ধরাজ জানে না যে আত্মা প্রিয় সেতো নিজের নয়,
যে সুবাস ফুলকে মহিমান্বিত করে সেও ফুলের নয়।
সময়কে কাটছে যে নরসুন্দর তার হাত সুন্দর নয় ,কুৎসিত।
জন্মাবধি অচ্ছুৎ ফুল কিংবা বৃক্ষ হয়ে থাকার সাধ আজও উন্মুক্ত হতে দেয়নি তার দৃষ্টি ।
সাড়ে তিন হাত বিদীর্ণ কুটিরে স্থায়ী যার শিকড় সেও কি তবে গিয়েছে ভুলে?
স্পর্শের আক্ষেপে-অভিমানে যে গিয়েছে চলে।