বুধবার, দুপুর ১:৩১, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, দুপুর ১:৩১, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম মতামত

উচ্চারিত হোক প্রতিক্ষণ সাম্যের হিস্যা

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/38sdvq

মে দিবস কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এক রক্তস্নাত অধ্যায়। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সভ্যতার প্রতিটি ইটের পেছনে রয়েছে শ্রমিকের ঘাম ও মেধা। এবারের মে দিবসে আমাদের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত—‘উচ্চারিত হোক প্রতিক্ষণ সাম্যের হিস্যা’।

সাম্যের হিস্যাই হোক আগামীর পথচলা ,আজ পহেলা মে। বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের যে আত্মত্যাগ ছিল, তার মূলে ছিল ন্যায্য মজুরি আর মানবিক কর্মপরিবেশের দাবি। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় শ্রমের মর্যাদা ও সময়সীমা নির্ধারিত হলেও, ‘সাম্যের হিস্যা’ আজও অনেক ক্ষেত্রে এক অপূর্ণ স্বপ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা পোশাক শ্রমিক থেকে শুরু করে নির্মাণ শ্রমিক কিংবা দিনমজুর—সবাই জিডিপিতে অসামান্য অবদান রাখছেন। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি আর আকাশচুম্বী বাজারদরের এই সময়ে তাদের প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান কি সমান্তরালে এগোচ্ছে? যখন মালিকপক্ষের মুনাফা বাড়ে, তখন সেই লভ্যাংশের সুষম বণ্টন বা ‘হিস্যা’ শ্রমিকের ঘরে পৌঁছানো জরুরি। সাম্য মানে কেবল সমান বেতন নয়; সাম্য মানে শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক অবস্থান। প্রযুক্তি ও অটোমেশনের এই যুগে শ্রমের ধরণ পাল্টাচ্ছে। গিগ ইকোনমি বা ফ্রিল্যান্সিং পেশাতেও শ্রমের শোষণ নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। তাই সাম্যের দাবিকে ডিজিটাল ও প্রথাগত—উভয় খাতেই জোরালো করতে হবে। কেবল রাজপথের শ্লোগানে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় ‘সাম্যের হিস্যা’ প্রতিফলিত হতে হবে। শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক হতে হবে সহযোগিতামূলক, শোষণের নয়। মালিকপক্ষকে বুঝতে হবে, শ্রমিকের সন্তুষ্টিই কারখানার দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির চাবিকাঠি।

অন্যদিকে, সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন।

পরিশেষে, মে দিবসের চেতনা তখনই সার্থক হবে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্য কমে আসবে। প্রতিটি শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই যেন তারা তাদের ন্যায্য হিস্যা বুঝে পান। সাম্যের এই জয়গান কেবল মে দিবসের একদিনের জন্য নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিনই হোক শ্রমিকের অধিকার রক্ষার লড়াই। জয় হোক মে দিবসের, জয় হোক শ্রমজীবী মানুষের।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন