বুধবার, দুপুর ১২:৪৫, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, দুপুর ১২:৪৫, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোম তথ্য ও প্রযুক্তি

সময়ের গহবরে পড়ে সকলেই দেহবাসী

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/f6b6f6

সময় এক রহস্যময় সৃষ্টি। সব সৃষ্টিই রহস্যময়। কিন্ত সময় সকল জীবের রূপান্তরের জন্য একাই বহুপ্রকার আপেক্ষিকতা নিয়ে ঘটমান বর্তমান। সময়ের গহবরে পড়ে সকলেই দেহবাসী। পক্ষান্তরে কালজয়ী অর্থাৎ সময়কে সুক্ষাতিসুক্ষ বিশ্লেষণকারী সময়ের গহবরমুক্ত থেকে সময়বাসী। একই সাথে সম্ভব এবং অসম্ভব। এই সম্ভব ও অসম্ভবের অস্তিত্ত্বগত খেলোয়ার সময়। একই সাথে চলমান সময় জীব বা বস্তুভেদে একেক গতির বা চরিত্রের। স্হান ও সময় সর্পিল বন্ধনে থেকে যে অপরূপ শিল্পের আল্পনা এঁকে যায়, তা কিন্ত রূপান্তরের খেলারই স্পষ্ট পরিচয়। রূপান্তর প্রচ্ছন্নতায়েই সুন্দর। প্রেম ভালোবাসা, অনুরাগ, অভিমান সবই অবগুণ্ঠনে থেকে আড়ালে উঁকি দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। মিলন, সঙ্গম, সম্মিলন এরাও প্রচ্ছন্ন থেকেই শিল্প বুনে চলে। সময় ও স্হানের এ খেলার পেছনের কারিগর বড়ই রসিক। দেখি সময় স্হান নিয়ে বিজ্ঞান কি বলে! আহা কাল ও পাত্র।

সময় ও স্থান—মানব জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর ও রহস্যময় দুইটি ধারণা। আমরা প্রতিদিন সময়ের প্রবাহে বেঁচে থাকি এবং স্থানের ভেতরেই আমাদের সমস্ত অভিজ্ঞতা ঘটে, কিন্তু এই দুইটির প্রকৃত স্বরূপ বোঝা সহজ নয়।

প্রথমে সময়ের কথা বলা যাক। সময়কে আমরা সাধারণত অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—এই তিন ভাগে ভাগ করি। ঘড়ির কাঁটার মাধ্যমে আমরা সময় মাপি, কিন্তু সময় আসলে শুধু একটি পরিমাপযোগ্য বস্তু নয়; এটি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা। যদি কোনো পরিবর্তন না ঘটত, তবে সময়ের অস্তিত্ব আমরা অনুভবই করতে পারতাম না। সময় আমাদের জীবনের গতি নির্ধারণ করে—জন্ম, বৃদ্ধি, বার্ধক্য—সবই সময়ের সঙ্গে বাঁধা।

অন্যদিকে, স্থান হলো সেই পরিসর যেখানে সমস্ত বস্তু ও ঘটনা অবস্থান করে। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, সেটি মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। এই মহাবিশ্ব অসীম বিস্তৃত, যেখানে রয়েছে নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যালাক্সি এবং অজানা অসংখ্য বস্তু। স্থান আমাদের চারপাশের জগৎকে গঠন করে এবং আমাদের চলাচল ও অবস্থানের ভিত্তি তৈরি করে।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সময় ও স্থান আলাদা কিছু নয়; তারা একসঙ্গে গঠিত একটি একক কাঠামো, যাকে বলা হয় Space-time। এই ধারণাটি বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করেছেন Albert Einstein তাঁর Theory of Relativity-তে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, সময় ও স্থান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কোনো বস্তুর গতি বা মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে সময় ধীর বা দ্রুত হতে পারে—যা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার বাইরে হলেও বাস্তব।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে ভ্রমণ করে, তবে তার জন্য সময় ধীরে প্রবাহিত হবে, তুলনায় স্থির অবস্থায় থাকা মানুষের সময় দ্রুত যাবে। এটিকে “টাইম ডাইলেশন” বলা হয়। একইভাবে, কোনো বিশাল ভরের বস্তুর (যেমন ব্ল্যাক হোল) কাছে গেলে স্থান ও সময় উভয়ই বিকৃত হয়ে যায়।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও সময় ও স্থান নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিছু দার্শনিক মনে করেন সময় একটি মানসিক ধারণা—মানুষের চেতনার ফল। আবার কেউ মনে করেন, সময় বাস্তব এবং এটি মহাবিশ্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

সবশেষে বলা যায়, সময় ও স্থান আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। আমরা তাদের ভেতরেই বাস করি, চিন্তা করি এবং ভবিষ্যৎ কল্পনা করি। যতই বিজ্ঞান এগোচ্ছে, ততই এই রহস্যময় ধারণাগুলোর নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে। তবুও, সময় ও স্থানের সম্পূর্ণ রহস্য এখনো মানুষের বোধগম্যের বাইরে—আর এই অজানাই জ্ঞানচর্চাকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।

ওমর ফারুক

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন