
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ পাহাড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মাত্র সাড়ে তিন মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তাঁর সমর্থক ও বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী মনে করছেন, প্রকৃত কারণ অন্য কিছু।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর রাঙামাটিতে তাঁর অনুসারীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক চাপের মুখে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁরা পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনর্বহালের আহ্বান জানান।
সাবেক যুগ্ম জেলা জজ দীপেন দেওয়ান প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাঙামাটি আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়। তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, মন্ত্রণালয় পরিচালনা, রাঙামাটির রাজনৈতিক প্রভাব এবং পার্বত্য জেলার পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে দীপেন দেওয়ানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি সংসদীয় আসন—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—সবগুলোতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তিন সংসদ সদস্যের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আবার দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। একদিকে রয়েছেন দীপেন দেওয়ানের অনুসারীরা, অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদারের সমর্থকেরা।
তবে দীপন তালুকদার দাবি করেছেন, পদত্যাগের বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ পাহাড়ের রাজনীতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁর দাবি, দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ নন এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাজামং মারমা। তাঁর মতে, দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিত্ব চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষম ছিলেন এবং কিছু প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে গঠিত হয়। চুক্তির একটি ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে পার্বত্য এলাকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করে এ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে হবে। বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলের তিন সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। তাঁদের একজন ছিলেন দীপেন দেওয়ান, যিনি এখন মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।