
আদম ও ইবলিশের ঘটনাকে গুরু-শিষ্যের একটি প্রাচীন ও শিক্ষামূলক ঘটনা হিসেবে কোরানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা কোরানে উদাহরণ হিসেবে এসেছে। এখানে বলা হয়েছে—আদম ও ইবলিশ একই গুরুর শিষ্য ছিলেন। পরে গুরু আদমকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেন এবং সবাইকে আদমের আনুগত্য করার নির্দেশ দেন। তখন ফেরেশতা স্বভাবের শিষ্যরা আদমকে সেজদা করে আনুগত্য প্রকাশ করলেও ইবলিশ তা মানতে অস্বীকার করে।
এখানে ইবলিশকে এমন এক চিন্তাধারার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে যে, মুক্তির পথ বা আত্মিক উন্নতির পথে সে বিশ্বাসী ছিল না। যদিও সে গুরুবাদ ও জন্মান্তরের ধারণায় বিশ্বাস করত,তবুও সে ভোগবাদী চিন্তায় আসক্ত ছিল। সে জান্নাতের সুখ-ভোগ চেয়েছিল, কিন্তু চরম সত্য বা আত্মিক মুক্তির সাধনায় আগ্রহী ছিল না।
মানুষ সাধারণত ইবলিশের এই ভোগবাদী চিন্তাকেই বেশি পছন্দ করে। কারণ মানুষ ইন্দ্রিয়ের আনন্দ ত্যাগ করতে চায় না এবং কষ্ট ও আত্মসংযমের পথ গ্রহণ করতেও মানুষ সবসময় অনিচ্ছুক।
এই কারণে বলা হয়েছে—বেশিরভাগ মানুষই ভোগবাদে বিশ্বাসী,মুক্তির পথ বা “সিরাতুল মুস্তাকিম”-এর পথে মানুষ চলতে চায় না।
যদিও খুব অল্পসংখ্যক মানুষ সত্য ও মুক্তির পথে চলার চেষ্টা করে, তবুও সেই পথই আল্লাহর নীতি ও মোহাম্মদী আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত সঠিক পথ।
“সিরাতুল মুস্তাকিম” বলতে এখানে এমন এক স্থির ও অটল পথকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে মন লোভ ও বস্তুগত মোহ থেকে মুক্ত থাকে। আর এই পথই মানুষের অন্তর থেকে দুনিয়ার মোহ দূর করার একমাত্র উপায়।
সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী