[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

[bangla_day], [bangla_time], [bangla_date]

হোম দর্শন

সালাত মোহমুক্তির যুদ্ধ

শেয়ার: https://www.timebulletin24.com/news/k2u61m

প্রকৃতপক্ষে ধর্মরাশির সঙ্গে রাত্রদিনে সদা সর্বদা অবিরামভাবে নিরলস হইয়া যুদ্ধ করিয়া মহান মর্যাদালাভের জন্যই মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন। আপন ইন্দ্রিয় জয় না করিয়া মহান হওয়া যায় না। অবিরামভাবে আল্লাহ হইতে যুদ্ধের আদেশ অর্থৎ সালাতের আদেশ আমাদের নিকট আসিতেই আছে। কী এই যুদ্ধ? আল্লাহর সঙ্গী হইয়া বা বন্ধু হইয়া থাকিতে চাহিলে ইন্দ্রপথে আগমনকারী সকল বিষয়ের মোহের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকিতে হইবে।

ইহা কঠিন-কঠোর যুদ্ধ।এই যুদ্ধ দিনরাত্রি পরিব্যাপ্ত। ইহারই অপর নাম দায়েমী সালাত।

সকল যুগের সকল জনপদ হইতে অসংখ্য লোককে ধ্বংস করিয়া ফেলা হয় পর্যাপ্ত সালাতের অভাবে। সালাত মনের একটি কর্মতৎপর অবস্থা। অবিরাম সালাতের বিপরীত অবস্থা আমাদের অবিরাম বিশ্রাম। মানবমন বিষয়মোহে আকৃষ্ট হইয়া কল্পনায় উহার সঙ্গে রমিত হয় এবং এক প্রকার আকর্ষণের বিশ্রামভাব অনুভব করে এবং উহার সঙ্গে লাগিয়া থাকে।ইহা সালাত বা ধ্যানহীন অবস্থা।

আল্লাহ্ অবিরামভাবে ইন্দ্রিয়পথে ধর্মরাশি পাঠাইয়া থাকেন। জনপদবাসীর উপর ইহাই আল্লাহর প্রেরিত অবিরাম যুদ্ধ।

ধর্মরাশির মোহ-সংহার করিবার জন্যই সালাত নামক এই যুদ্ধের শিক্ষা আল্লাহ দিয়া থাকেন। সালাত মোহমুক্তির যুদ্ধ। ইন্দ্রিয়সমূহ বশীভূত করিতে গেলে উহার স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে কঠিন প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হয়। এখানে মানুষের প্রকৃত বীরত্ব ও পুরুষ। এবং ইহাতেই নিহিত রহিয়াছে আত্মিক শক্তি।

মানুষের নিকট ধর্মরাশির অবিরাম আগমন পরীক্ষামূলকভাবে প্রেরিত অবিরাম দুঃখ-বিপদ ব্যতীত আর কিছুই নয়। অথচ মানুষ ইহাকে সুখকর অবলম্বনরূপে গ্রহণ করে। মানুষের জয়পরাজয় এই পরীক্ষার মধ্যেই নিহিত রহিয়াছে। ইহা হইতে মুক্তির ব্যবস্থা দান করাই মহামানবের কাজ। কিন্তু মানুষ অলসভাবে বিষয়ের বিশ্রামে অবিরাম থাকিতে ভালোবাসে। বীরের মতো বিপদের সাথে যুদ্ধ করিয়া মহাশক্তির অধিকারী হইতে চাহে না।

সদর উদ্দিন আহ্‌মদ চিশ্‌তী

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো আবশ্যক।

শেয়ার করুন