বিশেষ প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক লালন শাহ মাজার (আখড়াবাড়ি) এলাকায় ‘মাদক ও অপসংস্কৃতি’ চলছে বলে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আমির হামজার দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক জোট।সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, বাউল সাধক লালন শাহ-এর মাজারকে ঘিরে এমন মন্তব্য ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং দেশের অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার অংশ।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক মোহা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লালন শাহ মানবতা, প্রেম, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী প্রচার করেছেন। তাঁর মাজারে আগত সাধু, বাউল ও ভক্তরা আধ্যাত্মিক সাধনা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় অংশ নেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অপসংস্কৃতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা লালন অনুসারী এবং সংস্কৃতিমনা মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, লালনের জন্মবার্ষিকী ও তিরোধান দিবস উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেই সম্পন্ন হয়। ফলে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে—এমন অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ‘মাদকমুক্ত করার’ নামে মাজারকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টা অশুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করা হয়।
সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা আরও বলেন, লালন দর্শন বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই ঐতিহ্যকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তারা লালন একাডেমি, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংস্কৃতিসেবীদের সমন্বয়ে মাজারের পবিত্রতা ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে ধর্ম বা রাজনীতির নামে সংস্কৃতির ওপর অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ ও বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করে বলা হয়, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শেষে কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক জোট লালন শাহের মাজারকে ঘিরে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও উসকানিমূলক’ বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানায়।