
ছবি – সংগৃহীত
চট্টগ্রাম, ১৩ জুন ২০২৬: জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকার ফরিদারপাড়ায় নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি নাঈম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিএমপি কমিশনার বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তদন্তে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুরো পুলিশ বাহিনী নেবে না। যার দায়, তাকেই জবাবদিহি করতে হবে। ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রামে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে বহনকারী একটি অটোরিকশা থামায় পুলিশ। নাঈমের দাবি, অটোরিকশা থেকে নামিয়ে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত সোহেল তাঁকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন। পরে তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরও হেনস্তার শিকার হতে হয়।
নাঈম জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি অটোরিকশায় করে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র পরীক্ষা করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে জোরপূর্বক নামিয়ে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তিনি থানা থেকে মুক্তি পান।
এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে তাঁদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের সোর্স সোহেলকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।