
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশনের নির্মাণাধীন সড়ক ও গাইড ওয়ালের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত প্রকৌশল মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’। তবে কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মানের ইট ব্যবহার না করে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কার্পেটিংয়ের আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোট দেওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এর পরিবর্তে অল্প পরিমাণ ট্যাক কোট ব্যবহার করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বাসিন্দারা জানান, রাস্তার পাশে নির্মিত গাইড ওয়ালেও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে, যা অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও গুণগত মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এমন খামখেয়ালিপনা করার সুযোগ পাচ্ছে। গতকাল ২০শে জুন সকাল ১০টায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজ চলাকালে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে কোনো ধরণের অনিয়ম বরদাস্ত করা উচিত নয় উল্লেখ করে স্থানীয়রা দ্রুত কাজের গুণগত মান যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদার মোঃ সোবাহান জানান, “ভাটাওয়ালাকে ১ নম্বর ইট আনতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা ভুল করে ২ নম্বর ইট এনেছে। সেগুলো আবার ফেরত পাঠিয়েছে।” তবে তিনি কাজ ভালো করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, গাইড ওয়ালের জন্য যে ২ নম্বর ইট আনা হয়েছিল, সেটি ব্যবহারের সুযোগ নেই এবং তা বাতিল করে নতুন ইট আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাজের মান সন্তোষজনক না হলে কোনো ধরনের বিল পরিশোধ করা হবে না। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, আপাতত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান ঠিক করে ঠিকাদারকে পরবর্তীতে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন ও ছবি:
নাজমুল হোসেন, রাজবাড়ীঃ