
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | আপডেট: ২১ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম (সজীব)কে চাঁদা দাবির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাইরুল ইসলামকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিন্টো রোড কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর কাছে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ দাবি করেছিলেন খাইরুল ইসলাম। দাবি করা অর্থ না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির একটি গাড়ি আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় পুলিশ ও একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ ও কাঁচপুর এলাকায় বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখা হতো। এ ছাড়া সংসদ সদস্য বাবার প্রভাব ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আটকের পর জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে খাইরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন অনিয়মে সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় খাইরুল ইসলামকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে তাঁকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খাইরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।